কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 

কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
কলা
কলা ! যার বৈজ্ঞানিক নাম Musa spp  । কলা আমাদের সবার কাছে একটি পরিচিত নাম। আমরা সবাই কমবেশি কলা খেতে পছন্দ করি। পাকা কলা দেখতেও খুব সুন্দর দেখা যায়। আমরা বিভিন্ন ধরনের কলা দেখে থাকতে পারি। তবে আমাদের চোখে চাপা কলাই বেশি দেখা হয়। আমাদের দেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কলা চাষ করা হয়। আমাদের দেশের  নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, যশোর, বরিশাল, বগুড়া, রংপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর সহ অন্যান্য জায়গায় কলার চাষ করা হয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ও জাতের কলা চাষ করা হয়। যেমন: সবরি কলা , চাপা কলা , সাগর কলা , ধূপিপাসারি কলা , চম্পা , কবরি , মেহেরসাগর , বীচিকলা আকারে ছোট হলেও এর উপকারিতার বিস্তৃতিটা অনেক বড়। আমরা সবাই জানি কলা খেতে খুবই সুস্বাদু হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা কলা খেলে আমাদের কি উপকার হয় ‍ও কি পরিমাণ কলা খেলে আমাদের শরীরের উপকারের চেয়ে অপকারের পরিমানটা বেশি হয়ে যায়। চলুন আজ আমরা জেনে নিই কলার উপকারিতা ও অপকারিতা।

কলার উপকারিতা :

কলার মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ আয়রন। যা আমাদের দেহে রক্তে থাকা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ।

কলা প্রোটিনের একটি দুর্দান্ত উত্স। আপনি যদি প্রতিদিন একটি অথবা দুটি কলা খেতে পারেন তাহলে আপনার  হৃদযন্ত্র অনেক ভালো থাকবে এবং আশাকরা যায় আপনি  হার্ট এ্যাটাক ও স্ট্রোক থেকে অনেক দূরে থাকবেন।

কলাতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা এবং সল্যুবল ফাইবার, যা ধীরে হলেও দৃঢ় শক্তির যোগান দেয় শরীরে। এ কারণে খেলোয়াড়দের  প্রায়ই খেলার আগে বা খেলা চলাকালীন সময়ে কলা খেতে দেখা যায়।

কলার মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার । যা আমাদের পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।


আমাদের অনেকেরেই রাতে ঘুমানোর সময় মশায় কামড়ায় এবং মশা যেখানে কামড়ায় সেখানে লাল হয়ে ফুলে ওঠে। এসময়ে আমরা যদি মশায় কামড়ানো জায়গায় কলার খোসা ডলে দিতে পারি তাহলে আমরা একটা ভালো ফল আশা করতে পারি।

কলায় থাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি যা স্নায়ুকে শান্ত করে। মানসিক চাপ কাটাতে ফ্যাটি ফুডের থেকে বেশি প্রয়োজনীয় কলা। কার্বোহাইড্রেটে পরিপূর্ণ হওয়ায় কলা আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে স্নায়বিক চাপ কমাতে থুবই সাহায্য করে।

সাম্প্রতিক কিছু গবেষনায় দেখা গেছে , অতিরিক্ত পাকা কলা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ TNF-A  নামক এক ধরণের যৌগ সরবরাহ করে । যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। এতে করে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

কলার চামড়ায় কিছু পরিমাণে ফ্যাটি উপাদান আছে, যা ত্বকে ঘষলে ময়েশ্চারাইজারের মতো উপকার পেতে পারেন। আবার ব্রন দূর করার জন্যও কলার চামড়া ব্যবহার করা হয়। তবে সবধরনের ত্বকের জন্য তা কাজ নাও করতে পারে। তবু একবার চেষ্টা করে দেখতে তো দোষ নেই !


কলায় রয়েছে জলীয় অংশ ৭০ গ্রাম
আঁশ ০.৫ গ্রাম
খাদ্য শক্তি (কিলোক্যালরি) ১০৯
আমিষ ০.৭ গ্রাম, চর্বি ০.৮ গ্রাম
শর্করা ২৫.০ গ্রাম
ক্যালসিয়াম ১১.০ মিলিগ্রাম
লৌহ ০.৯ মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি ২৪ মিলিগ্রাম



কলার অপকারিতা :

ওজন বৃদ্ধি : মাঝারি মাপের একটি পাকা কলায় ১০৫ ক্যালোরি শক্তি থাকে। তাই বেশি কলা খেলে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল।





Post a Comment

0 Comments